ভারত একটি প্রাচীন সভ্যতা ও বহুত্ববাদী রাষ্ট্র। এই দেশের মাটিতে যুগে যুগে নানা ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে এসেছে। হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ—সবাই মিলেই ভারতের সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এই বহুত্বের মাঝেই ভারতের জাতীয় চেতনা, স্বাধীনতা আন্দোলন এবং দেশপ্রেমের নানা প্রতীক তৈরি হয়েছে। ‘বন্দে মাতরম’ তেমনই একটি বহুল আলোচিত শব্দ, যা ভারতের ইতিহাস ও আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
কিন্তু একই সঙ্গে এটি ভারতের মুসলমানদের জন্য একটি সংবেদনশীল বিষয়। কারণ ইসলাম একটি সুস্পষ্ট আকিদাভিত্তিক ধর্ম, যেখানে ইবাদত, উপাসনা ও বন্দনার নির্দিষ্ট সীমারেখা রয়েছে। এই প্রবন্ধে সহজ ভাষায় আলোচনা করা হবে—‘বন্দে মাতরম’-এর ঐতিহাসিক পটভূমি, এর সঙ্গে জড়িত ইসলামি প্রশ্ন, এবং একজন ভারতীয় মুসলমান কীভাবে এই বিষয়টি ভারসাম্যপূর্ণভাবে বুঝতে পারেন।
‘বন্দে মাতরম’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো—“আমি মাতাকে বন্দনা করি।” এই গানটি রচনা করেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, যা তাঁর উপন্যাস আনন্দমঠ-এ অন্তর্ভুক্ত ছিল। শুরুতে এটি একটি সাহিত্যকর্মের অংশ ছিল; পরে ধীরে ধীরে এটি রাজনৈতিক ও জাতীয় আবেগের প্রতীকে পরিণত হয়।
এই গানটি যে সময়ে লেখা হয়েছিল, তখন ভারত ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ছিল। স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, পরাধীনতার যন্ত্রণা এবং মুক্তির স্বপ্ন—এই সবকিছু মিলিয়ে ‘বন্দে মাতরম’ অনেক মানুষের কাছে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠে। তবে মনে রাখতে হবে, একটি সাহিত্যিক রচনার অর্থ ও ব্যবহার সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বহু স্লোগান, গান ও প্রতীক ব্যবহৃত হয়েছে। ‘বন্দে মাতরম’ তখন অনেক বিপ্লবী ও আন্দোলনকারীর মুখে শোনা যেত। এটি তাদের কাছে সাহস ও আত্মত্যাগের প্রতীক ছিল।
তবে স্বাধীনতা আন্দোলনে মুসলমানদের অবদান কোনো একটি স্লোগানের ওপর নির্ভরশীল ছিল না। শাহ ওয়ালিউল্লাহ, টিপু সুলতান, মৌলানা আজাদ, আশফাকুল্লাহ খান—এমন অসংখ্য মুসলমান স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাই মুসলমানদের দেশপ্রেম প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।
ইসলাম মানুষের জীবনকে উদ্দেশ্যহীন ভোগের বিষয় হিসেবে দেখে না; বরং এটিকে দায়িত্ব, জবাবদিহি ও ভারসাম্যের সঙ্গে যুক্ত করে। একজন মানুষ পৃথিবীতে যা কিছু করে, তার জন্য সে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করবে—এই বিশ্বাস ইসলামের মৌলিক শিক্ষা। তাই একজন মুসলমানের জীবন কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তার আচরণ, চিন্তা ও সমাজের প্রতি দায়িত্বও তার দ্বীনের অংশ।
কুরআনে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ বলেন— “স্মরণ করো, যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বলেছিলেন: আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি (খলিফা) সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।” (সূরা আল-বাকারা: ৩০)। এই আয়াত স্পষ্টভাবে বোঝায় যে মানুষ পৃথিবীতে শুধু বসবাস করার জন্য আসেনি; বরং আল্লাহপ্রদত্ত দায়িত্ব পালন করার জন্য এসেছে। এই দায়িত্বের মধ্যে দেশ, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করা অন্তর্ভুক্ত। অন্যায় থেকে বিরত থাকা, ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা, শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং মানুষের উপকারে আসা—এসবই খিলাফতের বাস্তব রূপ। তাই ইসলামের দৃষ্টিতে একজন মানুষের দায়িত্ব শুধু নিজের জন্য নয়; বরং সমগ্র সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিও তার দায়বদ্ধতা রয়েছে।
ইসলাম দেশপ্রেমকে অস্বীকার করে না। বরং নবী মুহাম্মদ (সা.) নিজেই তাঁর জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। হাদিসে এসেছে—
নবী করিম (সা.) মক্কা থেকে হিজরত করার সময় বলেছিলেন,
“হে মক্কা! তুমি আমার কাছে কতই না প্রিয়। যদি তোমার অধিবাসীরা আমাকে বের করে না দিত, আমি কখনো তোমাকে ছেড়ে যেতাম না।”
(তিরমিজি)
এই হাদিস স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে—নিজের জন্মভূমিকে ভালোবাসা ইসলামের পরিপন্থী নয়। একজন মুসলমান তার দেশের মঙ্গল কামনা করতে পারে, দেশের জন্য কাজ করতে পারে এবং দেশের আইন মানতে পারে।
ইসলামের মূল ভিত্তি হলো তাওহিদ—আল্লাহর একত্ব। কুরআনে আল্লাহ স্পষ্টভাবে বলেছেন—
“তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করো না।”
(সূরা আল-ইসরা: ২৩)
আরেক জায়গায় আল্লাহ বলেন—
“নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহর জন্য; সুতরাং আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে
ডেকো না।”
(সূরা আল-জিন: ১৮)
এই আয়াতগুলোর আলোকে মুসলমানরা বিশ্বাস করেন—বন্দনা, উপাসনা ও সিজদা কেবল আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট। এই কারণেই ‘বন্দে মাতরম’ শব্দটির অর্থ নিয়ে অনেক মুসলমানের মধ্যে দ্বিধা তৈরি হয়।
ইসলামে কাজের মূল্যায়ন হয় নিয়তের ওপর ভিত্তি করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছ—
“নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।”
(বুখারি ও মুসলিম)
কেউ যদি দেশপ্রেমের আবেগ থেকে কোনো কথা বলেন, আর কেউ যদি নিজের আকিদার কারণে তা এড়িয়ে চলেন—উভয় ক্ষেত্রেই একে অপরের নিয়তকে সম্মান করা জরুরি।
ইসলাম মানুষের বিশ্বাস, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। এই ধর্ম কখনোই জোর করে কোনো মত বা বিশ্বাস চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষে নয়। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টভাবে বলেছেন— “ধর্মের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই।” (সূরা আল-বাকারা: ২৫৬)। এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, ইসলামে বিশ্বাস গ্রহণ বা প্রকাশ সবসময় স্বেচ্ছায় ও হৃদয়ের আন্তরিকতা থেকে হওয়া উচিত।
এই নীতির আলোকে বলা যায়, দেশপ্রেমও এমন একটি বিষয় যা জোর করে প্রমাণ করানো যায় না। কাউকে নির্দিষ্ট কোনো স্লোগান বলতে বাধ্য করা বা একটি নির্দিষ্ট আচরণের মাধ্যমে দেশপ্রেম প্রকাশে চাপ সৃষ্টি করা ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ ভালোবাসা ও আনুগত্য কখনো বাধ্যবাধকতা থেকে আসে না; বরং তা মানুষের অন্তরের অনুভূতি থেকে জন্ম নেয়।
ইসলামের দৃষ্টিতে প্রকৃত দেশপ্রেম মানুষের কর্ম ও আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। দেশের আইন মেনে চলা, সমাজে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা, সকল নাগরিকের সঙ্গে সৌহার্দ্য বজায় রাখা—এসবই বাস্তব দেশপ্রেমের নিদর্শন। তাই ইসলাম শিক্ষা দেয়—জোর বা চাপ নয়; বরং নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল কাজের মাধ্যমেই সত্যিকারের দেশপ্রেম প্রমাণিত হয়।
ভারতের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দিয়েছে। একজন মুসলমান যদি তার বিশ্বাসের কারণে কোনো শব্দ ব্যবহার না করতে চান, সেটি তার সাংবিধানিক অধিকার। দেশপ্রেমের প্রকাশ একরকম হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
একজন মুসলমানের দেশপ্রেম প্রকাশ পায়—
দেশের আইন মানার মাধ্যমে,
সৎ নাগরিক হওয়ার মাধ্যমে,
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে,
সমাজসেবায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে।
কুরআনে আল্লাহ বলেন—
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা ন্যায়ের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো।”
(সূরা আন-নিসা: ১৩৫)
এই আয়াত মুসলমানদের শেখায়—দেশ ও সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই
প্রকৃত দায়িত্ব।
‘বন্দে মাতরম’ ইস্যুতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো পারস্পরিক অবিশ্বাস। মুসলমানদের না বলা অনেক সময় দেশবিরোধিতা হিসেবে দেখানো হয়, যা সমাজে বিভাজন তৈরি করে। আবার মুসলমানদের মধ্যেও ভয় তৈরি হয়—তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি দেশের ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর।
ইসলাম সংলাপ ও বোঝাপড়ার শিক্ষা দেয়। কুরআনে বলা হয়েছে— “তোমরা প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো।”
(সূরা আন-নাহল: ১২৫)
এই আয়াত আমাদের শেখায়—জোর নয়, যুক্তি ও সম্মানের মাধ্যমেই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
আজকের তরুণ মুসলমান প্রজন্মের উচিত আবেগের বদলে জ্ঞান ও বিবেচনার আলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়া। বিশেষ করে ‘বন্দে মাতরম’-এর মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার উসকানি বা জনচাপের প্রভাবে নয়; বরং কুরআন-হাদিস ও ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিষয়টি বোঝা জরুরি। ইসলাম মানুষকে চিন্তা করতে, যাচাই করতে এবং সত্যকে গ্রহণ করতে শিক্ষা দেয়—অন্ধ অনুকরণকে নয়।
তরুণদের এটা স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে যে দেশপ্রেম ও ইসলাম পরস্পরের বিরোধী নয়। একজন মুসলমান একই সঙ্গে একজন সৎ, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক ভারতীয় নাগরিক হতে পারে। দেশের আইন মানা, সমাজে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করা এবং সব মানুষের সঙ্গে সম্মান ও সহাবস্থানের সম্পর্ক গড়ে তোলা—এসবই ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দেশপ্রেমের বাস্তব প্রকাশ।
তবে একই সঙ্গে তরুণ মুসলমানদের আকিদার সীমারেখা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। ইসলাম কখনোই ইবাদত ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে আপস করতে বলে না। তাই যদি কোনো কাজ বা উক্তি ঈমানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে হয়, তা থেকে বিরত থাকা দুর্বলতা নয়; বরং বিশ্বাসের প্রতি দায়িত্বশীলতার পরিচয়। সংযম, প্রজ্ঞা ও নৈতিকতার মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরাই একজন সচেতন মুসলমান তরুণের প্রকৃত করণীয়।
একজন ভারতীয় মুসলমানের জীবনে দুটি বড় দায়িত্ব একসঙ্গে বিদ্যমান। একটি হলো আল্লাহর প্রতি দায়িত্ব, আর অন্যটি হলো নিজের দেশের প্রতি দায়িত্ব। আল্লাহর প্রতি দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে ঈমান রক্ষা, ইবাদত পালন, নৈতিক জীবনযাপন এবং হারাম-হালালের সীমা মেনে চলা। এই দায়িত্ব কোনো পরিস্থিতিতেই উপেক্ষা করা যায় না, কারণ ইসলামে বিশ্বাস ও আকিদার স্থান সবার উপরে।
অন্যদিকে দেশের প্রতি দায়িত্বও একজন মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের দেশের আইন মানা, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা, সমাজে ন্যায় ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা এবং সকল নাগরিকের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করা ইসলামের শিক্ষারই অংশ। একজন মুসলমান কখনোই নিজের দেশের ক্ষতি করতে পারে না; বরং দেশের উন্নতি ও কল্যাণে কাজ করাই তার কর্তব্য।
ইসলাম এই দুই দায়িত্বের মধ্যে সুন্দর ভারসাম্য বজায় রাখার শিক্ষা দেয়। আল্লাহর প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করাই একজন আদর্শ ভারতীয় মুসলমানের পরিচয়। এই ভারসাম্য রক্ষার মাধ্যমেই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি, স্থিতি ও পারস্পরিক সম্মান প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
‘বন্দে মাতরম’ ভারতের ইতিহাস, স্বাধীনতা আন্দোলন ও জাতীয় আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি শব্দ—এতে কোনো সন্দেহ নেই। একই সঙ্গে এটাও সত্য যে ইসলাম মুসলমানদের জন্য আকিদা ও ইবাদতের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এই প্রবন্ধের আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে, ভারতীয় মুসলমানরা দেশকে ভালোবাসে, দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছে এবং আজও দেশের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে; তবে তারা সেই ভালোবাসা প্রকাশ করে ইসলামের মূল বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে দেখা যায়, ইসলাম দেশপ্রেমকে অস্বীকার করে না; বরং ন্যায়, দায়িত্ববোধ, শান্তি ও মানবকল্যাণের মাধ্যমে তা বাস্তবে রূপ দিতে শেখায়। একই সঙ্গে ইসলাম জোর-জবরদস্তির বিরোধিতা করে এবং বিশ্বাস ও অনুভূতিকে মানুষের অন্তরের বিষয় হিসেবে গণ্য করে। তাই দেশপ্রেম প্রমাণের নামে কাউকে নির্দিষ্ট শব্দ বা আচরণে বাধ্য করা ইসলামের শিক্ষা ও ভারতের সাংবিধানিক চেতনা—উভয়ের সঙ্গেই সাংঘর্ষিক।
ভারতের মতো বহুধর্মীয় ও বহুসাংস্কৃতিক দেশে প্রকৃত ঐক্য গড়ে ওঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া ও সংলাপের মাধ্যমে। একজন আদর্শ ভারতীয় মুসলমান সেই ব্যক্তি, যিনি আল্লাহর প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করেন, ন্যায় ও শান্তির পথে চলেন এবং সমাজে বিভাজন নয়—সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করেন। এই ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিই ভারতের ঐক্য, স্থিতি ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সবচেয়ে শক্ত ভিত্তি।
রেফারেন্স:
কুরআনুল কারিম
হাদিস শরিফ